
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রদানের প্রক্রিয়া সহজ করতে এবার নতুন নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতি চালুর উদ্যোগের মধ্যেই মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্টধারীদেরও ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি যারা বিভিন্ন কারণে সময়মতো পাসপোর্ট নবায়ন করতে পারেননি, তারা এখন ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতদিন, এনআইডি পাওয়ার জন্য একটি মেয়াদ থাকা বৈধ পাসপোর্ট বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু অনেক সময় প্রশাসনিক জটিলতা, দীর্ঘসূত্রিতা বা বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রবাসীরা পাসপোর্ট নবায়ন করতে পারতেন না, যার কারণে তারা এনআইডি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন।
দশটি দেশে ১৭টি মিশনে এনআইডি সেবা
বর্তমানে দশটি দেশের ১৭টি মিশনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধন এবং এনআইডি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই মিশনগুলো হলো:
- মালয়েশিয়া
- সৌদি আরব (জেদ্দা ও রিয়াদ)
- সংযুক্ত আরব আমিরাত (আবুধাবি ও দুবাই)
- কাতার
- যুক্তরাজ্য (লন্ডন)
- সিঙ্গাপুর
- জর্ডান
- ওমান
- ইতালি (রোম ও মিলান)
- ব্রুনাই
- দক্ষিণ আফ্রিকা
- দক্ষিণ কোরিয়া
- গ্রিস
- ফ্রান্স
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন ডিসি)
ভোটার নিবন্ধনের শর্তাবলি
মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট ব্যবহার করে ভোটার হওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে:
১. পাসপোর্ট নম্বর এবং তথ্য: আবেদনকারীর মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্টের নম্বর এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য ফরমে সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে।
২. বৈধ ডকুমেন্টস: মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্টের পাশাপাশি আবেদনকারীকে তার বাংলাদেশি নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে অন্যান্য বৈধ কাগজপত্র, যেমন: জন্ম নিবন্ধন সনদ, বাবা-মা বা স্বামী/স্ত্রীর এনআইডির কপি ইত্যাদি জমা দিতে হবে।
৩. নিশ্চিতকরণ প্রক্রিয়া: আবেদনের পর নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা স্থানীয় মিশন বা দূতাবাসে আবেদনকারীর তথ্য যাচাই-বাছাই করবেন। প্রয়োজন হলে, তারা আবেদনকারীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পরিচয় নিশ্চিত করবেন।
পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ
মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্টে ভোটার নিবন্ধনের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতি চালুর বিষয়েও কাজ করছে। এই পদ্ধতি চালু হলে প্রবাসীরা তাদের নিজ দেশের নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। এটি প্রবাসীদের জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হবে, কারণ এর মাধ্যমে তারা দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নিতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “আমরা প্রবাসীদের ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়াকে যতটা সম্ভব সহজ করতে চাই। মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্টে নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি সেই প্রচেষ্টারই অংশ। আমরা আশা করছি, এর মাধ্যমে আরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি এনআইডি সেবা এবং পরবর্তীতে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন।”
প্রবাসে এনআইডি ও ভোটার নিবন্ধনের এই সহজীকরণ প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন প্রবাসী সংগঠন। তারা মনে করছে, এই উদ্যোগ প্রবাসীদের সঙ্গে দেশের বন্ধন আরও দৃঢ় করবে এবং তাদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবে।
সাম্প্রতিক খবর:

মৌলভীবাজারে ক্যাশলেস বাংলাদেশ বিষয়ক মতবিনিময় সভা ও র্যালি অনুষ্ঠিত

কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম শিক্ষার্থীর অভিভাবকের আবেগঘন চিঠি: শিক্ষক দিবসে শ্রদ্ধার্ঘ্য

জেদ্দায় প্রবাসীদের জন্য বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সতর্কবার্তা

কুয়েতের সালমি: মরুভূমিতে কোটি টাকার 'গাড়ির বাজার

ইউরোপের চাকরি ও ভিসার প্রলোভন,গ্রেফতার কুয়েতের এক রিক্রুটিং ব্যবসায়ী

ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উপলক্ষে কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

কুয়েতে জশনে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল অনুষ্ঠিত

গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ কুয়েত কেন্দ্রীয় কমিটির দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত

কুয়েতে শেষ হলো আকামা বদলের সুযোগ, ২৭ হাজার প্রবাসীর খাত পরিবর্তন












